April 20, 2026, 3:18 am

রহস্যজনক কারণে নিরব কর্তৃপক্ষ সিদ্ধিরগঞ্জে সড়কে বাজার বসিয়ে চাঁদাবাজি

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:সরকারি রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে বাজার। বিদ্যুৎ
সংযোগও দেওয়া হয়েছে অবৈধভাবে। বাজারটি থেকে মাসে চাঁদা আদায়
করা হচ্ছে কমপক্ষে ৭ লক্ষাধিক টাকা। জনবহুল একটি এলাকায় সড়ক দখল করে
প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করলেও বাজার নিয়ন্ত্রনকারী আসলাম ওরফে বরিশাইল্যা
আসলাম ও বাছেদের বিরুদ্ধে রহস্যজন কারণে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ
করছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ । ফলে এলাকায় বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ।
কতর্ৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নং ওয়ার্ড সিদ্ধিরগঞ্জের
সাহেবপাড়া এলাকায় ডিএনডি ক্যানেলপাড় দখল করে বাজার বসিয়েছে
আসলাম ও বাছেদ। বাজারে কঁাচা তরিতরকারি, মাছসহ বিভিন্ন রকমের
শতাধিক দোকান বসানো হয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ২
থেকে আড়াইশত টাকা করে দৈনিক কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা চঁাদা আদায়
করছে। যা মাসে দঁাড়ায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা।
সরেজমিনে বাজারে গিয়ে দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,
কিছু দিন আগে ডিএনডি প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর
সদস্যরা বাজারটি ভেঙে দিয়েছিলেন। পরে আসলাম ও বাছেদ সেনাবাহিনী
ম্যানেজ করার কথা বলে প্রতি দোকানদারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে
অগ্রিম নিয়ে আবার বাজারটি বসিয়েছে। চঁাদাবাজরা দেশের গর্বিত
সেনাবাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করার মত মিথ্যাচার করে দোকানদারদের ধোকা ও
সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করে পকেট বাড়ি করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন
স্থানীয়রা। তাছাড়া বাজারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে, গুলজার, ওমর আলীর
বাড়ি ও মুন নামক মুদি দোকানের আবাসিক মিটার থেকে। বিদ্যুৎ
সংযোগ বাবদ প্রতি দোকান থেকে দৈনিক ৩০ টাকা করে বিল আদায় করা
হচ্ছে।
জানতে চাইলে আসলাম বলেন, আমি বাজার বসালেও সেনাবাহিনী ভেঙে
দেওয়ার পর থেকে সরে গেছি। এখন কে বসিয়েছে তা জানা নেই। রিপোর্ট
করার দরকার নেই এসে চা খেয়ে যায়েন।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী
অমিত অধিকারী বলেন, আবাসিক মিটার থেকে বাণিজ্যিক সংযোগ
দেওয়া অবৈধ। যদি কেউ এভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে থাকে যাচাই-
বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সাহেবপাড়া এলাকায়
রাস্তা দখল করে বাজার বসিয়ে চাঁদাবাজি করার বিষয়টি আমার জানা নেই।
এমন অভিযোগ কেউ করেনি। তবে তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা